Skip to main content

অনুপম আদর্শের দর্পণ মক্কা বিজয়

সময়টা ৬৩০ খ্রিস্টাব্দ মোতাবেক ৮ম হিজরি। সুবহে সাদিকের কোমল আলোয় আলোকিত হতে শুরু করেছে চারদিক। মদিনার বিজন মরুভূমির বালুকাময় পথ ধরে এগিয়ে চলছে বিশাল এক কাফেলা। যু্দ্েধর পোশাকে সজ্জিত সবাই। সঙ্গে আছে অস্ত্র বোঝাই করা উটের বহর। কাফেলার মধ্যমণি দুজাহানের সরদার হজরত মোহাম্মদ (সা.)। প্রিয় মাতৃভূমি মক্কা বিজয়ের মানসে ছুটে চলছেন নিরন্তর। ঘরহারা মক্কার সাহাবায়ে কেরাম (রা.)ও প্রবল উৎসাহে ছুটছেন। মনে বইছে খুশির জোয়ার। আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার আনন্দের বন্যা।

ঐতিহাসিকদের মতে মক্কা বিজয় ইসলামের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়। যদিও আল-কোরআনে হুদাইবিয়ার সন্ধিকেই প্রকাশ্য বিজয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে; প্রকৃতপক্ষে হুদাইবিয়ার সন্ধির মাধ্যমে যে বিজয়ের সূত্রপাত হয়েছিল তার চূড়ান্ত রূপই ছিল মক্কা বিজয়। কোরাইশদের পক্ষ থেকে হুদাইবিয়ার কিছু সন্ধি ভঙ্গের কারণে নবি করিম (সা.) এর মক্কা বিজয়ের দ্বার উন্মোচন হয়। 
৮ দিন পর ৮ম হিজরির ১৮ রমজান নবি করিম (সা.) ১০ হাজার সাহাবি নিয়ে মক্কায় বিজয়ীবেশে প্রবেশ করেন। এরমধ্যে আবু সুফিয়ান আর ইকরামা এসে ইসলাম গ্রহণ করেন। হজরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) এর অংশের সৈন্যদের ওপর কুরাইশ সৈন্যরা তীর বর্ষণ করলে তিনজন মুসলমান শাহাদাত বরণ করেন। হজরত খালিদ (রা.) প্রত্যুত্তর দিলে কাফেরদের ১৩ জন নিহত হয় আর বাকিরা পালিয়ে যায়। এ ছাড়া আর কোনো রক্তপাতের ঘটনা ঘটেনি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কায় প্রবেশ করে কোরাইশদের এতদিনের নির্যাতনের কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ করলেন না। বরং তিনি এই মর্মে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলেনঃ ১. যারা আপন ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকবে তারা নিরাপদ ২. যারা আবু সুফিয়ানের ঘরে থাকবে তারা নিরাপদ এবং ৩. যারা কাবাগৃহে আশ্রয় নিবে তারাও নিরাপদ। তাঁর পতাকা ছিল সাদা ও কালো রঙের। মাথায় ছিল লৌহ শিরস্ত্রাণ এবং তার ওপর ছিলো কালো পাগড়ী বাঁধা।

তিনি উচ্চস্বরে সুরা ফাতাহ তিলাওয়াত করছিলেন। তখন তিনি আল্লাহ তায়ালার সমীপে এতটাই বিনয়ী ছিলেন যে, সওয়ারী উটের ওপর ঝুঁকে পড়ার ফলে তাঁর মুখম-ল যেনো উটের কুঁজ স্পর্শ করছিল। মক্কা বিজয়ের এই ঘটনার সঙ্গে আধুনিককালের কোন রাজ্য জয়ের ঘটনাকে তুলনা করলেই ইসলাম ও জাহিলিয়াতের পার্থক্যটা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। জাহিলিয়াতের ঝা-াবাহীরা বিজয় উৎসবের নামে প্রকাশ করে দানবীয় উল্লাস। আর সে উল্লাসের শিকার হয় অসহায় ও নিরস্ত্র মানুষ। অথচ মক্কা বিজয়ে মুসলমানদের না ছিলো কোনো রক্তোল্লাস না ছিলো কোনো গর্ব-অহংকার।

Image removed.

এরপর রাসুলুল্লাহ (সা.) কাবাঘরে প্রবেশ করেন। তখন কাবাঘরে ৩৬০টি মূর্তি রাখা ছিলো। তিনি নিজ হাতে সেগুলো চূর্ণবিচূর্ণ করে ঐতিহাসিকদের মতে মক্কা বিজয় ইসলামের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বিজয়। যদিও আল-কোরআনে হুদাইবিয়ার সন্ধিকেই প্রকাশ্য বিজয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে; প্রকৃতপক্ষে হুদাইবিয়ার সন্ধির মাধ্যমে যে বিজয়ের সূত্রপাত হয়েছিল তার চূড়ান্ত রূপই ছিল মক্কা বিজয়। কোরাইশদের পক্ষ থেকে হুদাইবিয়ার কিছু সন্ধি ভঙ্গের কারণে নবি করিম (সা.) এর মক্কা বিজয়ের দ্বার উন্মোচন হয়।

পবিত্র ঘরকে শিরক ও অপবিত্রতা থেকে মুক্ত করেন। এরপর তিনি তকবির ধ্বনি উচ্চারণ করে কাবাঘর তওয়াফ করেন। মুসলমানদের অনুপম আদর্শ, দয়া আর সহিষ্ণুতা দেখে মক্কার কাফেরদের হৃদয়চক্ষু খুলে গেল। তারা দেখলো, এতোবড় একটি বিজয়ে বিজয়ীরা রক্তের উৎসবে মেতে ওঠেনি। কোনো শান-শওকাত বা গর্ব-অহংকার নেই তাদের অন্তরে। বরং বিনয় আর ক্ষমার সুমহান আদর্শে বিশ্বাসী তারা। ইসলামের এই সুন্দর আদর্শ দেখে এতদিনের সকল ক্ষোভ ঝেরে ফেলে দিয়ে দলে দলে মুসলমান হয়ে গেলো মক্কার কাফেররা।